মু★খো★শ
পর্ব:2
আপনি সেদিন বললেন সুমির মুখ বাঁ-ধা ছিল, সুমিও সেটা বলল।প্রশ্ন হচ্ছে,মুখ বাঁধা থাকলে বিছানা জুড়ে লিপিস্টিকের দাগ লাগল কি করে?
ইকবাল হোসাইনের কপালে ভাঁজ পড়েছে।তিনি ঠোঁ-ট কামড়ে বললেন,আসলেই তো! মুখ বাঁধা থাকলে বিছানা জুড়ে লিপিস্টিকের দাগ থাকবে কেন! সুমি বলল তার মুখ নাকি বিছানার সাথে ঠেসে ধরা হয়েছিল,আবার এটাও বলল তার মুখ বাঁ-ধা ছিল। আচ্ছা স্যার বাসর রাতে বিছানায় লিপিস্টিকের দাগ লেগে থাকতে পারেনা কি?
<
ইনজাম মাহমুদ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল,না পারেনা।সুমি বলেছে তারা সে রাতে বেশ ক্লান্ত থাকায় মিনিট দশেক কথোপকথন সেরেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।আর একটা কথা,আপনি ভুলেও আমাদের কনফিউজড করার চে*-*ষ্টা করবেন না।আপনার ভ্রু নাঁচিয়ে, সন্দেহর চোখে কথা বলার ধরনটা সুবিধার না।
ইকবাল হোসাইন দু গালে হাত দিয়ে বলল,তওবা! তওবা! এগুলো কি বলেন স্যার! আমি নিতান্ত সাধাসিধে মানুষ। থানায় এই জীবনে প্রথম এলাম,মনে যা আসে তাই বলে দি।আপনি আমাকে ভু*-*ল ভাবছেন।
ইনজাম ইকবালের দিকে তাকিয়ে ঠোঁ'টের কোণে কৃত্রিম হাসি এনে বলল,আমিও চাই আপনার ব্যাপারে যা ভাবছি সেটা যেন ভু*-*ল হয় কিন্তু সেলিমের খু*-নে*-র ব্যাপারটা বারবার বলছে আমি যা ভাবছি তা ঠিক হতে চলেছে।তবে খুব করে চাইব আমি যেন ভু*-*ল হই।আপনি আসতে পারেন।আমাদের জরুরি টিম মিটিং আছে।
ইকবাল হোসাইন থানা থেকে বেরিয়ে এসেছে। উদ্দেশ্য পূবাইল। বাইরেই তার পার্টির গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় উবার ডাকতে হয়নি।
সুমিকে এর মাঝে বার দুয়েক জিজ্ঞাসা করে জানা গেছে ঐ রাতে সুমির মুখ কালো কাপড়ে বাঁ*-*ধা ছিল।লিপিস্টিকের দাগ সে সজ্ঞান থাকতে বিছানায় লাগায়নি।
ইনজামের অফিস কক্ষে ফখরুল, তালহা আর শওকত সাহেব বসে আছে। ইনজাম বলল,ইলোরাকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা গ্রেফতার কোনটাই সম্ভব নয়।তার বাবা ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতা।ভালো পদেও আছে।আমাদের ইলোরার ব্যাপারে খুব সতর্কভাবে এগোতে হবে।কোন প্রমাণ হাতে পেলেই তার বাবার আর কিছু করার থাকবেনা।ইনজামের কথার বিরতিতে ফখরুল বলল,স্যার সেলিম সাহেবের বাড়ির ছাদে তিনি যখন খু*-*ন হন তখন তার মিসেস বাড়ি ছিল না।দারোয়ান বলছে সেদিন বাড়িতে কেউ ঢোকেনি,সে কোন চি/ৎ/কা/রে/র আওয়াজ শোনেনি। অথচ ছাদ থেকে থেকে নিঁচু গলায় ডাকলেও দারোয়ানের ডাক শোনার কথা।একটা ব্যাপারে বেশ মিল আছে, পিয়াশ যখন খু*-*ন হোল তখনও কেউ কোন আওয়াজ, চি/ৎ/কা/র শোনেনি।সেলিমের ব্যাপারটাও তাই। এটা কি ক্লু দিচ্ছেনা যে দুটো খু*-*ন একই প্ল্যানে হয়েছে?
ইনজাম বলল,হ্যাঁ একই প্ল্যানে দুটো খু*-*ন হবার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।তবে এখানে একটু অস্বচ্ছতা রয়েছে,সুমি বলছে তাদের মুখ বাঁধা ছিল তাই আওয়াজ করতে পারেনি।
তালহা বলল,স্যার এমনও তো হতে পারে সুমি আমাদের কনফিউজড করছে।এমনও তো হতে পারে সুমি নিজে খু*-*ন করিয়ে মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে।
শওকত খানিকটা বিরক্ত স্বরে বলল,তালহা সাহেব উলটাপালটা কথা বলেন কেন! মেয়েটা খু/নি/দে/র হাতে মা-রা-ত্ম-ক ভাবে আ* হ* ত হয়েছে,নিজের বাসর রাতে একটা মেয়ে তার স্বামীকে কেন মা--র--বে?
ইনজাম দুজনের কথা বাড়াতে দিল না।ইনজাম বলল,তালহা সাহবের কথা ফেলে দেয়া যায়না।আবার শওকত সাহেবের কথায় যুক্তি আছে বেশ।তবে এই কেসের বড় অগ্রগতি হয়তো দ্রুত দেখতে পারবো আমরা।সোর্সের নিউজ অনুযায়ী পিয়াশের প্রাক্তন প্রেমিকা আই মিন ইলোরা নাকি সামনের মাসেই বিয়ে করতে চলেছে।ইনজাম এটুকু বলেই রহস্যময় চাহনি দিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে দিল।
তালহা বলল,স্যার! এই মেয়ের হুট করেই বিয়ের খায়েশ জাগাটা হয়তো বড় ক্লু।হতে পারে এই ইলোরাই খু* ন* টা করিয়েছে!
শওকত ফিক করে হেসে বলল,তালহা সাহেব আপনার কি আমাকে সন্দেহ হয়না?
ফখরুল, ইনজাম হো হো করে হেসে উঠল।তালহা বাংলা পাঁচের মত মুখ করে বেরিয়ে গেলো।
মাস খানেক পেরিয়ে যাচ্ছে, দফায় দফায় সুমি,ইকবাল হোসাইন,পিয়াশের দুই বোনসহ তারা বাবা মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও স্ট্রং কোন ক্লু পাচ্ছিল না ইনজাম মাহমুদরা।
এদিকে সুমি মে/ন্টা/ল রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য উর্ধতন কর্মকর্তা ও আইনি মুচলেকা সাপেক্ষ ইন্দোনেশিয়া বেড়াতে গিয়েছে।
ফখরুলঃস্যার, আসতে পারি?
ইনজামঃহ্যাঁ, আসো।
ফখরুলঃ স্যার,সোর্সের নিউজ অনুযায়ী ইলোরার বিয়েতে একুয়া ২০১৪ মডেলের গাড়ি উপহার দিচ্ছে পিয়াশের বোনজামাই ইকবাল হোসাইন।যার মূল্য প্রায় পনেরো লক্ষ টাকা।
ইনজামঃ এই লোককে প্রথমদিন থেকেই সুবিধার মন হয়নি।ইলোরার সাথে কিংবা ইলোরার ফ্যামিলির সাথে তার যোগাযোগ থাকতে পারে এমনটা আগে আন্দাজও করিনি আমরা!
ফখরুলঃ ইকবাল হোসাইন কোন কাজকাম করেনা,আহামরি কোন নেতাও নয়।স্ত্রীর পয়সায় চলে। এই লোক এতগুলো টাকা কোথায় পেল?
ইনজামঃ হা হা,আপনি পৃথিবীর সব র//হ/স্য জানতে পারবেন কিন্তু এ দেশের রাজনৈতিক নেতাদের টাকার সোর্স কখনো জানতে পারবেন না। যাই হোক,ইলোরার বাবা ক্ষমতাসীন দলের নে-তা আর ইকবাল হোসাইন বিরোধী দলের।দুজনের এত দহরমমহরম এর পেছনে গল্প আছে নিশ্চয়ই। সোর্স বাড়াও,জোঁকের মত লেগে থাকতে বলো।
ফখরুলঃ স্যার, আরেকটা নিউজ আছে।সুমি ইন্দোনেশিয়া গিয়ে অপরিচিত এক যুবকের সাথে একই রুমে থাকছেন।ঘুরছেন।ছেলেটা বাংলাদেশী।যে সুমি দেশে থাকতে ঘর থেকে বের হয়নি,প্রতিটা জিজ্ঞাসাবাদে মুখ কালা করে কথা বলেছে,কেঁদেকেটে অস্থির হয়েছে সে-ই ইন্দোনেশিয়াতে যাওয়া মাত্রই শর্ট ড্রেস পরে বিচে ঘুরছে,হেসেখেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।হুট করে এমন পরিবর্তন কি সন্দেহজনক নয়?
ইনজামঃ কি হচ্ছে এসব! এ দেখি সবাই-ই সন্দেহজনক। স্পেসিফিক কাউকে ধরে এগোলে কেসটা সহজ হয়ে যেত।এক কাজ করো,ইন্দোনেশিয়ায় সুমি যার সাথে ঘুরছে তার ইনফরমেশন জোগাড় করো।প্রয়োজনে সোর্সকে বলো তারা যেন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকে।
ইনজাম আরো কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল এর মাঝেই শওকত সাহেবের ফোন আসল।
ইনজামঃ হ্যালো,শওকত সাহেব। বলুন..
শওকতঃস্যার,ইলোরা এই সপ্তাহে ই দুবাই যাচ্ছে হা/নি/মু/নে/র জন্য।খবর আছে ইকবাল হোসাইন নাকি কাল দুবাই যাচ্ছেন চেক আপের জন্য।
ইনজামঃআই সি! আপনি দেখুন আরো কোন ইনফরমেশন পান কি না।
শওকতঃঅকে স্যার।
ফোন রেখে ইনজাম ফখরুলকে বলল,স্পেশাল অফিসারের সাথে কথা বলুন। তিনি যেন দুবাইয়ের সোর্স নিয়ে ওদের সার্বক্ষণিক চোখে চোখে রাখে।কেন যেন মনে হচ্ছে দুবাইতেই কেসটার সমাপ্তি হতে পারে। অন্তত আমার সি--ক্স--থ সে*-*ন্স তাই বলছে।
সপ্তাহখানেক ধরে ইকবাল হোসাইন আর ইলোরাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা সত্ত্বেও কোন হেল্পফুল ইনফরমেশন পাওয়া যায়নি।ধারণা করা হচ্ছিল ইলোরা আর ইকবাল হোসাইন একসাথে মিলিত হতে পারে কিন্তু তেমনটা হয়নি। দুজন দু শহরে থাকছে,ঘুরছে।কারোর সাথে কারো কোন যোগাযোগ হয়নি।
কেসটা যখন খানিকটা হালকাভাবে দেখা হচ্ছিল ঠিক তখন ইন্দোনেশিয়ার সোর্স থেকে সুমির সঙ্গে থাকা ছেলেটির বাংলাদেশের ঠিকানা পায় পায় ইনজামরা। ছেলেটির সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় সুমির সঙ্গে থাকা ছেলেটির নাম খোরশেদ। খোরশেদের সাথে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে সুমি।তাদের দুজনের ভেতর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।যে সম্পর্কের বয়স প্রায় চার বছর।
ইনজামরা তাদের নীতি--গত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।তারা সিদ্ধান্তে আসে বাংলাদেশে আসা মাত্রই এয়ারপোর্ট থেকে তাদের দুজনকে গ্রে/ফ/তা/র করা হবে।
চলবে-------------
আশা করছি লাইক কমেন্ট করে পাশেই থাকবেন। নেক্সট পর্ব সবার আগে পেতে এখনি আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করে রাখুন।ধন্যবাদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন