আমার বাবা ধষক
পর্ব---২
---প্লিজ চাচা আমাকে ধর্ষন করবেন না। আপনার দুটি পায়ে পরি। ( কুহেলিকা )
---ওই বেশি চিৎকার করবি না। নৌকা থেকে ফেলাই দিবো। তখন নিজের জীবনটাই হারাবি।
কুহেলিকা : ঠিক আছে আপনার যা ইচ্ছে হয় আমার সাথে করুন!
---কুহেলিকার মুখে এমন কথা শুপে রৌদ্রর বাবা একটু এবাকি হয়। কারন যেই মেয়ে একটু আগে নিজের কে বাচানোর চেষ্টা করলো এখন সেই মেয়ে নিজের তার শরীর বিলিয়ে দিচ্ছে।
---এইতো লাইনে আইছো। আমি যা করতে চাই তা আমাকে করতে দাও না হলেতো বুজছোই কি হবে।
---কথাটি বলেই রৌদ্রের বাবা যেইনা কুহেলিকার কাছে এসেছে। ঠিক সময় বুজে কুহেলিকা ধাক্কা মেরে তাকে পানিতে ফেলে দিয়েছে। পানিতে ফেলে দেয়ার সাথে সাথেই নৌকাটি কোন রকমে তার থেকে একটু দুরে নিয়ে যায় কুহেলিকা?
---এই মেয়ে তুমি কি করছো এই সব! আমাকে নৌকায় তুলে নাও না হলে ডুবে মা/রা যাবো।
কুহেলিকা : না আমি আপনাকে আর এই নৌকায় তুলে নিবো না। আপনি ভিষন খারাপ মানুষ।
---আমি আর ওই সব করতে চাইবো না। প্লিজ আমাকে তুলে নাও। না হলে এই ঘাট সাতার কাটিয়ে যেতে পারবো না।
---কে শোনে কার কথা। কুহেলিকা তার কথার কোন উত্তর না দিয়ে নৌকাটি চালাতে থাকে। ( কোন রকমে ) আর রৌদ্রের বাবা এমন ভাবেই সাতারাতে থাকে ঘাটে আসার জন্যে।
---এই দিকে রৌদ্র হাপাতে হাপাতে তার বাবা ভয়ে মায়ের কাছে চলে আসে।
---কিরে রৌদ্র তুই এমন হাপাচ্ছিস কেনো কি হয়েছে! ( রৌদ্রের মা )
রৌদ্র : এক গ্লাস পানি দাও আগে সব বলতেছি।
---সাথে সাথেই মা এক ক্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে আসে। আর রৌদ্র সেটা ঢক ঢক করে খেতে থাকে। এটা দেখে মা বেশ ঘাবরে যায়।
---এখন তো বলবি কি হয়েছে! ( মা )
রৌদ্র : মা বাবা আজকেও একটি মেয়েকে নিয়ে ঘাটের ওই পারে যাচ্ছে।
মা : আল্লাহ্ এখন কি হবে। ওই মেয়েটার।
রৌদ্র : মা আমি মেয়েটাকে নিষেধ করেছি অনেকবার। কিন্তু আমার কোন কথাই শুনেনি। বরং আমাকে কথা শুনিয়েছে।
মা : তুই বলিশনাই তোর বাবা একজন ধর্ষক! তার মেয়ে মানুষ দেখলে মাথা ঠিক থাকেনা।
( কথা গুলা কেউ খারাপ ভাবে নিবেন না। আমি গল্পটি সাজানোর জন্যে একটু নেগিটিভ কথা বলতেছি )
রৌদ্র : হুম বলেছি কিন্তু তখন বাবা সেখানে এসে সব শুনে ফেলে আর আমি ওখান থেকে পালিয়ে আসি।
মা : শোন তুই আবার সেখানে যা গিয়ে দেখ কিছু ঘটেছে নাকি।
রৌদ্র : হুমম মা যাচ্ছি।
----এই বলে মায়ের কাছে থেকে সোজা খেয়া ঘাটে চলে আসে রৌদ্র।
( সবাই ভাবতেছেন রৌদ্রের বাবার কাহিনী কি? আসলে রৌদ্রের বাবা একটু খারাপ টাইপের মানুষ। মেয়ে মানুষ দেখলেই তাকে খারাপ প্রস্তাব দেয়। তাই ওনার নৌকায় কেউ উঠতে চায়না। যদিও বা কেউ উঠে তারা হলো অপরিচিত লোকজন )
---এই দিকে কুহেলিকা কোন রকমে কষ্ট করে এই ঘাটে চলে আসে। এসেই এক দৌরে তার ফুফির বাসায় চলে যায়।
কুহেলিকা : ফুফি ফুফি আমাকে বাছাও।
---কুহেলিকার এমন চিৎকারের আওয়াজ শুনে লোকজন বাহিরে চলে আসে।
ফুফি : কি হয়েছে মা এমন চিৎকার চেচামেচি করতেছিস কেনো। আসার সময় কোন সমস্যা হয়েছে।
কুহেলিকা : হুমমম অনেক সমস্যা হয়েছে। একটি লোক আমাকে নৌকায় করে মাঝ পথে নিয়ে এসে ধর্ষন করার চেষ্টা করেছিলো।
ফুফি : বলিশ কি!
কুহেলিকা : হুমমম আমি তার হাত থেকে কোন রকমে বেছে গিয়েছি।
ফুফি : প্রথম থেকে সব খুলে বলতো কি হয়েছিলো।
---এর পরে কুহেলিকা প্রথম থেকে শুরু করে সব কথা সবাইকে বলতে থাকে। আর এই সব শুনার পরে সবার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পরে।
ফুফি : যাক আল্লাহ্ রহমত ছিলো তাই বেছে গেছিস। নৌকায় উঠলে দেখে শুনে উঠতে হয়। যেই নৌকায় মানুষ জন বেশি সেই নৌকায় উঠতে হয়।
কুহেলিকা : হুমম ঠিক আছে।
ফুফি : আয় ভিতরে আয়। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া কর। আর চিন্তা করিশনা।
কুহেলিকা : ঠিক আছে ফুফি!
---এই দিকে আবার রৌদ্র ঘাটে চলে আসে। এসেই তার বাবা কে খুজতে থাকে। কিন্তু কোথাও খুজে পায়না। তাই অন্য একটি মাঝিকে জিঙ্গেস করে।
রৌদ্র : মাঝি ভাই আমার বাবা কে দেখছো। এখানেই তো ছিলো।
মাঝি : হুমম ছিলো। কিন্তু একটু আগে কাকে যেনো নিয়ে ওই ঘাটে চলে গেছে।
রৌদ্র : ওহ! আচ্ছা চলতো আমরাও ওই ঘাটে যাই।
মাঝি : হুমমম যেতে পারি কিন্তু টাকা লাগবে।
রৌদ্র : আরে ভাই অবশ্যই টাকা দিবো! কিন্তু আগে তো আমাকে নিয়ে চলো।
মাঝি : না / না ভাই ওই সব বাকির কাজ আমি করিনা। অন্য মাঝিকে দেখতে পারো।
---মাঝির এমন কথা শুনে রৌদ্র তার শার্টের পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে দেয়।
রৌদ্র : এই নাও টাকা! এখনতো চলো দয়া করে! আমার ভিষন দেরি হচ্ছে।
মাঝি : হুমম উঠে পরো।
---এর পরে মাঝি ও রৌদ্র দুজনেই খুজতে থাকে! কিন্তু খুজে পায়না। অনেক খোজা খুজির পরে রৌদ্র দেখতে পায় একটু দুরে কি যেনো ভেসে আছে।
রৌদ্র : মাঝি ভাই তোমার নৌকাটি একটু ওই সামনের দিকে নিয়ে যাওতো।
---রৌদ্রর কথা মতো মাঝিও নৌকাটি সামনের দিকে নিয়ে যায়। একটু সামনে যেতে না যেতেই রৌদ্র চিৎকার করে উঠে বাবা বাবা বলে। কারন ভেসে থাকা জিনিসটা আর কিছু না সেটা রৌদ্রের বাবার লা/শ যেটা কিনা পানিতে ডুবে মা/রা গিয়েছে।
---এর পরে রৌদ্র ও মাঝি দুজনেই লা/শটি নৌকায় তুলে নিয়ে ঘাটে চলে আসে। ঘাটে আসার সাথে সাথেই মানুষ জনের ভির লেগে যায়।
---সবাই বলতে থাকে কিভাবে মৃত্যু হলো। একেকজনের একেক মন্তব্য। এরি মধ্যে আবার রৌদ্রের মাও চলে আসে স্বামী মৃত্যুর খবর শুনে।
---এসে রৌদ্রকে জরিয়ে ধরে ভিশন কান্না শুরু করে দেয়! এক পর্যায় কিছু লোক রৌদ্রের মায়ের কান্না দেখে বলে।
---কতো মানুষের জীবন নষ্ট করেছে। আজ ওর জীবন এমন ভাবে শেষ হলো কেউ জানতেই পারলো না। আল্লাহ্ ছার দেয় কিন্তু ছেরে দেয়না। কথার সাথে আরো কিছু লোক সুর দিয়ে বলে। যাক বাবা এখন আমাদের মেয়ে নিরাপদ। এই মা/রা গিয়েছে ভালোই হয়েছে।
---কথাগুলা শুনে রৌদ্রের বুকটা যেনো ফেটে যাচ্ছে তবুও কিছু বলতে পাচ্ছে না। কিবা বলবে তার বাবা তো সত্যি ভালো মানুষ ছিলোনা।
---এমন সময় একজন লোক বলে উঠে।
---রৌদ্র তোর আবার নৌকা ওই ঘাটে দেখলাম। একদিকে বেধে রাখা।
---কথাটি শুনার সাথে সাথে রৌদ্রের। বুঝার আর বাকি রইলো না যে ওই মেয়েটি তার বাবা কে হত্যা করেছে।
---আবার লোকটি বলে উঠে। নৌকা যদি ওই ঘাটে থাকে তবে রৌদ্রের বাবা ঘাটের মাঝ খানে কেমনে মারা গেলো।
---অন্য দিকে কুহেলিকার কানে ও এই কথাটি যায় যে মাঝিটা মা/রা গিয়েছে।
ফুফি : কুহেলিকা এই কুহেলিকা!
কুহেলিকা : হুমমম ফুফি ফলো?
ফুফি : শোন তুই বাড়ি থেকে কোথাও বের হবিনা। কারন তুই যেই মাঝিকে পানিতে ফেলে দিয়েছিস সে মারা গিয়েছে। যদি কেউ জানতে পারে তুই এমন কাজ করছিস তবে সমস্যা আছে।
---কথাটি শুনেই কুহেলিকা নিস্তব্ধ হয়ে যায় তৎখাক!
কুহেলিকা : বিশ্বাস করো ফুফি আমি নিজেকে বাছানোর জন্যে এমন কাজ করতে বাদ্ধ হয়েছি।
ফুফি : হুমম আমি জানি। যা রুমের ভিতরে যা। আমি ডাকলে বাহিরে আসবি। তা ছারা আসবি না।
কুহেলিকা : ঠিক আছে।
---এই বলে কুহেলিকা রুমের ভিতরে চলে আসে। আর ভাবতে থাকে। ইসস আমি যদি তাকা ধাক্কা না দিতাম তবে লোকটি বেছে থাকতো। কি করলাম এটা আমি ছি....!
---এই দিকে আবার রৌদ্র তার বাবা কে লোকজন নিয়ে কবর স্থানে মাঠি দেয়। মাঠি দিয়ে এসেই রৌদ্রের মা জিঙ্গেস করে।
মা : রৌদ্র বল সেই মেয়েটা কে ছিলো! যে তোর বাবা কে হত্যা করেছে।
রৌদ্র : এখানে মেয়েটির কোন দোশ নেই মা! হয়তো আমার বাবা মেয়েটার সাথে খারাপ কিছু করতে চেয়েছিলো। তখন নিজেকে বাছানোর জন্যে বাবা কে পানিতে ফেলে দেয়। আর,,,,,,,?
মা : আর একটিও বাজে কথা বলবি না। মেয়েটা তোর বাবাকে বাছাইতে পারতো না।
রৌদ্র : হুমম পারতো। কিন্তু সে হয়তো বাবা কে ভয় করেছে।
---এর পরে অনেক কথা বলে! দেখতে দেখতে বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো। তাই রৌদ্র নৌকা নিয়ে ঘাটে এসেছে।
---অন্য দিকে কুহেলিকাও বেশ কিছুদিন ফুফির বাসায় থাকলো। আজ নিজের বাসায় ফিরে আসবে। তো যদি কেউ চিনে ফেলে এই কারনে একটি বোরকা পরেসে।
কুহেলিকা : ফুফি আমার ভয় করতেছে।
ফুফি : আরে পাগলি তোরে কেউ চিনবে না। আমি আছি তো নাকি।
কুহেলিকা : হুমম?
---এর পরে কুহেলিকা তার ফুফিকে নিয়ে ঘাটে চলে আসে। কিন্তু কোন নৌকা দেখতে পায়না। হটাৎ লক্ষ করে খেয়া ঘাট থেকে একটি নৌকা আসলো কিছু লোক নিয়ে। এখন এই নৌকাটি আবার লোক নিয়ে চলে যাবে খেয়া ঘাটে।
---এই নৌকা যাবা খেয়া ঘাটে আবার? ( কুহেলিকার ফুফি)
---হুমমম অবশ্যই যাবো? কয়জন জাবেন?
( মাঝির মুখে কথাটি শুনেই কুহেলিকা মাঝির দিকে সাথ সাথ তাকায়। কারন কন্ঠটা চেনা চেনা লাগলো। তাকানোর সাথেই দেখে যে এটা তো সেই মাঝির ছেলে যে আমাকে বলেছিলো আমার বাবা ধর্ষক। অন্য নৌকায় যান )
কুহেলিকা : ফুফি আমি এখন যাবো না।
ফুফি : চুপ কর! বতর্মান আর কোন নৌকা আসবে না। এই নৌকায় যা। আর ছেলেটাও দেখতে শুনতে ভালো মনে হচ্ছে।
---এর পরে কুহেলিকা মনে মনে ভাবতে থাকে আজকেই তার জীবনের শেষ দিন। কারন এই ছেলে যদি জানে আমি তার বাবা কে পানিতে ফেলে দিয়েছি তবে আমি শেষ
---এর পরে রৌদ্র তার নৌকা থেকে লোক নামিয়ে দিয়ে কিছুক্ষন পরে কুহেলিকা কে নিয়ে আবার খেয়া ঘাটের আসার জন্যে রহনা দেয়।
---তো ঘাটের মাঝে আসা মাত্রই রৌদ্র সোজা কুহেলিকা কে বলে _____
" পরবর্তী পর্বের জন্যে অপেক্ষা করুন ধন্যবাদ 😘

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন